Published : 06 May 2026, 09:07 PM
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পরিদর্শনে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার সকালে প্রতিমন্ত্রী পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সড়কপথে শিবিরগুলোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রতিনিধিদলটি মধুরছড়া (ক্যাম্প-৪) এবং বালুখালী (ক্যাম্প-১৮) সহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি সরবরাহ পয়েন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এমএসএফ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রতিমন্ত্রীকে শিবিরগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। বিকেলে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার শহরে ফিরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। তবে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বদ্ধপরিকর।
আমরা চাই রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজ দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ফিরে পায়।” প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বিশ্ববাসীরও। রোহিঙ্গা সংকট আমাদের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার উপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে সফল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা স্মরণ করেন। মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত, আসিয়ান দেশসমূহ, মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথেও সমন্বিতভাবে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বাসস্থানের মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
সরকার এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করছে। পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চলমান মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। ক্যাম্প-৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে তারা দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য জোর দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও মানবিক করার নির্দেশ দেন। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন, এপিএস মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহকারী সচিব জাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।।